রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সিলেট অঞ্চলে প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় অত্যাধুনিক এম–১৬ অস্ত্র প্রদর্শনের একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত ওই অস্ত্রটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার সময় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিলেটের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্রাগার থেকে বিভিন্ন মডেলের মোট ১৩২টি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। দেড় বছরের বেশি সময়ে এর মধ্যে ১১৬টি অস্ত্র উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১৬টি অস্ত্র নিখোঁজ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সচেতন নাগরিক কমিটির সিলেট জেলা সভাপতি শিরিন আক্তার বলেন, থানা লুটের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হাতেও অস্ত্র চলে গেছে। এখনো সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ভোটার হিসেবে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর মতে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বড় অন্তরায়।
শুধু সংঘর্ষের সময় নয়, অস্ত্র প্রদর্শন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ওই অস্ত্রটি উদ্ধার করা যায়নি। পরে ওই উপজেলায় অভিযান চালিয়ে র্যাব বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সিলেট অঞ্চলের ভারত সীমান্ত ব্যবহার করে চোরাচালান হওয়া অস্ত্র বিভিন্ন সময় হাত বদল হচ্ছে। একটি চক্র কুরিয়ার সার্ভিসের সহায়তাও নিচ্ছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
র্যাব-৯-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং অধিকাংশ অস্ত্র ইতোমধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন অফিস, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৯৯টি। গত দেড় বছরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এসব অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।
