নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় সংক্রান্ত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের ক্যাডারদের দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এই বর্বর হামলায় জকসুর ভিপি, জিএস, শিক্ষক ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের নির্ধারিত কর্মসূচিতে এ অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হয়।
জকসু ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর মতো মৌলিক দাবিগুলো প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টিগোচর করতে চেয়েছিলেন জকসুর প্রতিনিধিরা। কিন্তু জকসু প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড হাতে মিলনায়তনে প্রবেশ করতে গেলে জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়।
একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জকসু নেতাদের হাত থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে জবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ড. রিফাত হাসান আক্রান্ত ও আহত হন। পরবর্তীতে হামলার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অন্তত ৬ জন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
হামলায় জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, সদস্য আবদুল্লাহ আল ফারুকসহ ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসে শেখ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভ রক্তাক্ত ও আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক চিত্রে জকসুর জিএস ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ক্যাম্পাস ছাড়তে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ শীর্ষ নেতাদের সামনে থেকেই সরাসরি ইন্ধন দিতে দেখা যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রদলের এই দফায় দফায় সশস্ত্র হামলা ও রক্তপাতের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজ। তারা অবিলম্বে দায়ী ক্যাডারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
