নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে কুপ্রস্তাব ও জঘন্য যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও রুকন ওমর ফারুক (৩৫)। শিশুদের প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগ নিয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং চরম নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ওমর ফারুক উপজেলার পাকারমাথা গ্রামের বাসিন্দা এবং পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন ছিলেন। তার ভাই আবু বকরও ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছে। পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক ফারুক ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি নিজের বাড়িতেই শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই প্রতিদিনের মতো ওই শিশুটি প্রাইভেট পড়তে গেলে কৌশলে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে দেয় ফারুক। এরপর একা পেয়ে শিশুটির ওপর চরম যৌন নিপীড়ন চালায় সে। পরে ভুক্তভোগী শিশু কান্নাকাটি করে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এই ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পবা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ফারুককে আটক করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুর রহমান মিলন জানান, বিষয়টি নিয়ে শিশুর পরিবারের সাথে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। এরপ্রেক্ষিতে উপজেলা জামায়াতের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম নৈতিক স্খলনের দায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পবিত্র ধর্মের দোহাই ও রাজনীতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জামায়াত নেতাদের এমন জঘন্য ও নীতিহীন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। তারা অভিযুক্ত ওমর ফারুকের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
