নিজস্ব প্রতিবেদক
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জয়নব বিনতে হোসাইনের (জয়নব শান্তু) আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে।
একদিকে তার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে কয়েকজন এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
ঘটনায় আহত অধ্যাপক জয়নব বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার সহকর্মীরা চ্যানেল-১৪-কে নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাপক জয়নব বিনতে হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন নারী পর্বতারোহী ও কবি হিসেবেও পরিচিত।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তার বন্ধু রোমানা আফরোজ নান্সি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মৎস্যভবন এলাকা থেকে রিকশাযোগে শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় জাতীয় শিশুপার্কের গেটের কাছে অধ্যাপক জয়নবের রিকশায় পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তীতে তাকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে জানান রোমানা আফরোজ নান্সি।
রোমানা আফরোজ নান্সির দাবি, অধ্যাপক জয়নব দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লেখালেখি ও অবস্থান বজায় রেখে আসছিলেন। তার মতে, আদর্শিক অবস্থানের কারণেই ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা আহত অবস্থায় অধ্যাপক জয়নব নিজেও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে শিবিরপন্থী এক অ্যাকটিভিস্ট পলিয়ার ওয়াহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, অধ্যাপক জয়নব শাহবাগ এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি লেখেন, ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে এবং যে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে অধ্যাপক জয়নবের নয়। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি অধ্যাপক জয়নবের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা জানিয়েছেন যে তিনি আপাতত শঙ্কামুক্ত।
এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন রোমানা আফরোজ নান্সি। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক জয়নবের সঙ্গে তোলা একটি ছবি তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে পাঠিয়েছেন, যেখানে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় শয্যাশায়ী দেখা যায়।
অধ্যাপক জয়নবের ভাষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তার বন্ধু রোমানা বলেন, ঘটনার সময় দুটি মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করছিল। পরে তার রিকশায় ধাক্কা দিলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলের এক পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং অন্য পাশে রমনা পার্ক থাকায় সেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না।
রোমানা আফরোজ নান্সির আরও দাবি, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক জয়নবকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে লেখালেখি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল এবং কিছু গোষ্ঠীর কাছ থেকে তিনি হুমকিও পাচ্ছিলেন।
গত বছরের ১৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে শোকজ নোটিশ দেয়, এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
সেখানে লেখা হয়েছে, ‘অদিষ্ট হয়ে জানাচ্ছি যে, অতি সম্প্রতি আপনার/আপনাদের কর্মকাণ্ড/লেখালেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের নজরে এসেছে এবং এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে’।
‘এ আচারণের ব্যাখ্যা আগামীকাল ২০ নভেম্বরের মধ্যে দেওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে অধ্যাপক জয়নব নিজের নীতি-আদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রের পক্ষে আছেন বলে তার ব্যাখ্যায় জানিয়েছিলেন।
