ড. মাহমুদ এম হাসানআইনের শিক্ষক ও গবেষক, কানাডা
১. ওসমান হাদিকে খুন করে কার লাভ হলো চিন্তা করুন। খুব ভাবুন। আওয়ামীলীগের কথা ভাবুন, বিএনপির কথা ভাবুন, জামাতের কথা ভাবুন, এনসিপির কথা ভাবুন, ভাবুন এবি পার্টির কথাও।
ক. জীবিত অবস্থায় ওসমান হাদির কর্মকান্ডকে কতজন ফলো করতেন আর এখন কতজন ফলো করেন সেটা ভাবুন। জীবিত অবস্থায় হাদি তার নির্বাচনী প্রচারনা করতো সাথে ১০ বারো জনকে সাথে নিয়ে। এদের মধ্যে যুমা একজন, হাদির ভাই একজন আর খু*লনের সাথে সন্দেহজন দুইজন। অর্থ্যাৎ, তার সমর্থক ছিল খুবই কম মানুষ। তাদের মধ্যে মনামি ম্যাডাম অন্যতম।
খ. হাদিকে গুলি করার পর “নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও হাদির জীবন ফিরিয়ে দিতে দাও ইশ্বর” বলছে যারা তাদেরকে সন্দেহ করুন। এই দলে সবার প্রথমে আছে পিনাকি ও আমার দেশের মাহমুদুর রহমান। তারা হাদিকে তাদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসে তা আগে কোনদিন জানতে পারি নাই। মাহমুদুর রহমান একটা পত্রিকার সম্পাদক। হাদিকে নিয়ে তার রাজনীতি, ভারতীয় আধিপত্য রোখার শপথ এবং সবাইকে একসাথে জড়ো করে দায়টা আওয়ামীলীগ ও ভারতের উপর চাপিয়ে দিয়ে ইনভেস্টিগেশন ভিন্নদিকে মোর নেওয়ালো কিনা ভাবুন।
গ. হাদি গুলিবিদ্ধ হলো তারই এক সহকর্মীর (নির্বাচনী প্রচারনার) দ্বারা এমন বলা হচ্ছে। এও বলা হচ্ছে সেই ঘাতকেরা ভারতে পালিয়ে গেছে। এই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার কথাটা কে সবার সামনে আনলো? কেন আনলো এটাও ভাবেন। আসলেই কী তারা ভারতে পালিয়ে গেছে? ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে যে খুনি ভারতে পালায়নি। খুনিদের যে সেল্ফি দিয়ে শায়ের বলেছে যে তারা ভারতে সেই ছবি শায়ের পেল কিভাবে সেটাও ভাবুন। এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের যুগে শায়ের কার ফোন থেকে ছবি সংগ্রহ করেছে ভালমতো তাকেও জিজ্ঞেস করুন। খু*নিরা নিশ্চয়ই ভারতে গিয়ে ছবি তুলে শায়েরকে বলে নাই যে পালিয়ে ভারতে গিয়েছি। গোয়েন্দারা পারে না, কিন্তু শায়ের পারে কিভাবে?
ঘ. সন্দেহ করুন হাদির সহযোদ্ধা যুমাকে। হাদি গুলিবিদ্ধ হলো ডিসেম্বরের ১২ তারিখে। যুমা ডিসেম্বরের ২ তারিখে ফেসবুকে লিখলো, “আর ১০ দিন পর”। হ্যাঁ, ঠিক ১০ দিন পরেই হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। যেহেতু যুমা হাদির সাথে তার ডানহাত হয়ে বা সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় থাকতো, নির্বাচনী প্রচারণা চালাতো, সেহেতু হাদির সাথে দেখা করতে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসে আসলো, কারা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলো সেটাও জানার কথা। যুমার সাথে খু*নিদের যোগাযোগ, পরিচয় এবং তার ২ ডিসেম্বরের ” আর ১০ দিন পর” কথাগুলোকে হ ত্যাকান্ডের এলিবাই হিসেবে না ধরাটা কোনভাবেই সঠিক ইনভেস্টিগেশন না।
ঙ. হাদি জীবিত অবস্থায় বলেছিল যে তার বুকে বা মাথায় গুলি করে হ ত্যা করা হলে তার যেন সুষ্ঠু বিচার হয়। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিচার তো দূরের কথা তাকে নিয়ে রাজনীতিই হয়েছে। হাদির খু*নিদের ধরতে পারে নাই পুলিশ ও গোয়েন্দারা। ধরতে পারছে না, নাকি ধরছে না এটা নিয়েও সন্দেহ করুন।
চ. হাদির গুলি খাওয়ার সাথে সাথেই আসিফ মাহমুদ কিভাবে এতো লোক জড়ো করে বিক্ষোভ করলো এটাও সন্দেহের তালিকায় রাখুন। আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টা পদ ছেড়েই ভারত ও আওয়ামীলীগ বিরোধী রাজনীতি দিয়ে মাঠ গরম করার উপলক্ষ এতো দ্রুত পাওয়াটাকেও সন্দেহের তালিকায় রাখুন। অজনপ্রিয় হয়ে ওঠা, মিডিয়ায় নিস্ক্রিয় হয়ে যাওয়া এনসিপির সার্জিস, হাসনাতরা ভারতের বিরুদ্ধে, সেভেন সিস্টার্সকে ভাঙতে চাওয়ার উপলক্ষ তৈরি করে আবার মিডিয়া ফোকাসে আসলো। সেটা হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণেই যে হয়েছে সেটাও ভাবুন।
ছ. সরকারকেও সন্দেহের তালিকায় রাখুন। হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সরকার হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো ছাড়া আর তেমন কিছুই করেনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে খুনিদের ধরা নিয়ে প্রশ্ন করলে কেন তা এড়িয়ে গিয়ে আলু, পেয়াজের দাম বাড়া নিয়ে কথার উত্তর দেয় না, সেয়াওব নিয়েও সন্দেহ করুন। আরো সন্দেহ করুন, নির্বাচন কমিশনকে। প্রধান নির্বাচন কমিশন বলেছেন যে নির্বাচনের মাঠে এরকম গুলিবিদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। আশিক চৌধুরীর হাদির ছবি হেলমেটে ছেপে আকাশ থেকে ঝাপ দেওয়াকেও সন্দেহের তালিকায় রাখুন। ডিসেম্বরের ২৫ তারিখে তারেক রহমান যেন দেশে ফিরতে ভয় পায় এবং দেশ অস্থিতিশীলতার দোহাই দিয়ে নির্বাচন যেন না করতে হয়, এ কারণেও সরকারকে সন্দেহ করুন।
জ. হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই যারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল তারা হাদির আসনে বিএনপির এমপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে দোষ দিচ্ছিল। এনসিপির নেতারাও মির্জা আব্বাসকে দায়ী করছিল। যদিও আমার মনে হয় না মির্জা আব্বাস হাদির মতো অখ্যাত প্রার্থিকে মেরে প্রতিদ্বন্দি কমাবে। মির্জা আব্বাস মাস্তান হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আছে। তারপরও মির্জা আব্বাসকেও সন্দেহের তালিকায় রাখুন।
ঝ. হাদিকে মারলে যে হাদি প্রচন্ড জনপ্রিয় হবে এবং নিজেদের রাজনীতিতে ফেরা ভয়ংকর কঠিন হবে, এটা বোঝার মতো বুদ্ধি আওয়ামীলীগের আছে বলেই আমার মনে হয়। মির্জা আব্বাস বা বিএনপিকে যে কারণে পুরো সন্দেহ করিনা, ঠিক একই কারণে আওয়ামীলীগকেও অতো সন্দেহ করিনা। হাদি এন্টি আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক কটুক্তি করেছে, সেই কারণে আওয়ামীলিগকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। এ ছাড়া শুটার ছেলেটা ছাত্রলীগের রাজনীতি করতো, এটাও সন্দেহের বিষয়। আবার, নতুন সরকার আসার পর ছাত্রলীগ, আওয়ামীলীগ, যুবলীগের নেতারা পালিয়ে গেলেও, এরকম পোস্টেড নেতা কোন দাপটে চাঁদাবাজি করতে পারে, গ্রেফতার হয়েও জামিন পায় যেখানে নিরীহ অনেক মানুষ জামিন না পেয়ে জেলে দূর্বিষহ জীবন কাটায়! আর তারা ভারত যদি গিয়েই থাকে, তাদেরকে কারা সাহায্য করেছে সেটাও জানা জরুরী।
ঞ. জামাত ইসলামকে সবচেয়ে বেশি সন্দেহের তালিকায় রাখুন। হাদি গুলিবিদ্ধ হয়াওয়ার দুইদিন আগেই ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে জামাত ওই আসনে নমিনেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। হাদি আর সাদিক কায়েমের ভোটাররা প্রায় একই রকমের হওয়ায় যে কোন একজন সরে গেলে আরেকজন লাভবান হবে। সেই কারণে সাদিক কায়েম এবং জামাতকে সন্দেহের তালিকায় রাখুন। এ ছাড়া বর্তমানে যে ভারতে বিরোধী ও আওয়ামীলীগ বিরোধী রাজনীতি তুঙ্গে উঠেছে, সেটা জামাতের কট্টর রাজনীতির অংশ। হাদি গুলিবিদ্ধ না হলে বা মারা না গেলে এই রাজনীতি মানুষের ভিতর দাবানলের মতো ছড়াতো না।
২. ওসমান হাদি আজ মারা যাওয়ার পর যা প্রেডিক্ট করেছিলাম তাই হয়েছে। গত দেড় বছর ধরে আমেরিকা থেকে ইলিয়াস হোসেন এবং প্যারিস পিনাকি ভট্টাচার্য যেভাবে আমাদের উগ্র ইসলামী তৌহিদি জনতাকে উষ্কে দিয়ে দেশটাকে নরকে পরিনত করেছে, তার ধারাবাহিকতা আজকেও হয়েছে। কত মানুষকে দেখলাম তাদের দুইজনের এইসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে লিখতে। শুনলাম তাদের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ফ্রান্স সরকারের কাছে কম্পলেইন্ট জমা পড়েছে। এসব দেশে থেকে অন্য দেশে হ ত্যা থেকে শুরু করে বিভিন্নরকম অপরাধ কর্মে উষ্কানি দিতে পারার কথা না। দিলে তাদেরকে বের করে দেওয়ার কথা। হাজার হাজার কমপ্লেইন্ট পড়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে এই দুই সরকার কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না দেখে সন্দেহ হয় যে তারাই কী এই দুইজনকে পালছে বা ব্যবহার করছে?
৩. পিনাকি আর ইলিয়াস আজকে হাদি মারা যাওয়ার পর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে ভারতের দালাল ট্যাগ দিয়ে ভায়োলেন্ট মব তৈরী করেছে। সেই ভায়োলেন্ট মব প্রথমে প্রথম আলো বিল্ডিং ভাঙচুর ও আগুণ দেয়। জানিনা প্রথম আলোতে কোন হতাহত হয়েছে কিনা, কিন্তু এই পত্রিকা তারপর থেকে কোন নিউজ ছাপে নাই। প্রথম আলো জ্বালানো শেষে এই মব যায় ডেইলি স্টারে এবং প্রথম আলোর চেয়ে ভয়ংকর ভাবে ডেইলি স্টারে আগুণ দেয়। দাওদাও করে জ্বলতে থাকে। বাইরে উগ্রবাদি জনতা স্লোগান দিচ্ছে, “নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবার”, “ইনকিলাব, ইনকিলাব, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ।”
৩. আজকের প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের আক্রমণের জন্য সবচেয়ে দায়ী মাহমুদুর রহমান ও তার দল ছোটন গ্যাং। এই গ্যাং এর সদস্য পিনাকি ও ইলিয়াস। মাহমুদুর রহমান আমার দেশ নামের যে পত্রিকা চালায় সেটা একটা প্রোপাগান্ডা মেশিন ছাড়া কিছু না। ইসলামি উগ্রবাদিতা ও জঙ্গিবাদিতা প্রমোটকারি হিসেবেই প্রতিয়মান। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রচুর শত্রু থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশে এই দুইটা পত্রিকাই আছে যারা কঠোর নীতি মেনে সাংবাদিকতা করে এবং সংবাদ পরিবেশন করে। এই দুই পত্রিকা প্রগতিশীলতাকে প্রমোট করে, জঙ্গিবাদকে বয়কট করে। এই দুইটা পত্রিকা থাকলে আমার দেশ ও ইসলামিক রেভুলোশন সম্ভব না। তাই এই দুই পত্রিকাকে ধ্বংস করার প্ল্যান আজকে বাস্তবায়ন করলো হাদির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে।
৪. ডেইলি স্টার পত্রিকার এক নারী সাংবাদিক, নাম জাইমা ইসলাম, অফিসের ভিতর থেকে লিখেছেন যে চারদিকে প্রচন্ড ধোয়া এবং তাদেরকে মেরা ফেলা হচ্ছে। তারপর থেকে জাইমার কোন আপডেট নাই। শোনা যাচ্ছে এই দুই অফিসেই শত শত সাংবাদিক ও কর্মচারী ছিল। তাদের জীবন রক্ষা পেয়েছে কিনা এখনো জানিনা। কিন্তু যে কাজটা পিনাকি ও ইলিয়াসের উস্কানিতে ভায়োলেন্ট মব করলো তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখে চুনকালি পড়বে। সারা বিশ্বে নোবেল শান্তি বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনুস ভিলেইন হিসেবে স্বীকৃত হবেন।
৫. এই ভায়োলেন্ট মব এমনি এমনি তৈরী হয়নি। গত বছর ৫ই আগস্টের পর থেকে কয়েকশ মব হয়েছে এ পর্যন্ত। প্রচুর মানুষ মারা গেছে। সরকার সেসব বাঁধা দেয়নি, এবং ক্ষেত্র বিশেষে সহায়তা করেছে। যেমন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সিটি কর্পোরেশনের বুল্ডজার ব্যবহার করে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আর্মি ও পুলিশের সামনে, অথচ তারা বাঁধা না দিয়ে ভাঙতে দিয়েছে। সরকারের এরকম কর্মকান্ডকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভ্যালিডিটি দিয়েছে শক্ত প্রতিবাদ না করে।
৬. আপনাদের হয়তো মনে আছে গত বছর আগস্টের শেষ দিকে গাজী টায়ার্সে আগুণে লুটপাট করতে আসা ১৮৭ জন মানুষ নিখোঁজ হয়। সেই নিখোঁজ হওয়ার খবরের পর বাংলাদেশের সকল মিডিয়া আর কোন আপডেট দেয়নি। আর এটাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক।
৭. আজ ডেইলি স্টার পত্রিকার ভিতর থেকে সাংবাদিক জাইমা ইসলাম আপডেট দিয়েছে যে তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে। কারা জাইমাকে মারছে? যাদেরকে জাইমারা ক্ষমতায়িত করেছে। জুলাই আগস্টের আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনে জামাত শিবির ও জঙ্গিদের সাথে মিকে জাইমারাই কাজ করেছিল। যাদেরকে জাইমারা তৈরি করেছিল, আজ তারাই ফ্র্যাংকেনস্টেইন হয়ে জাইমাদের আগুণে পুড়িয়ে মারছে। তারা আসলে মানুষ চিনতে ভুল করেছিল।
৮. জাইমাসহ যারা প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও অন্য কোথাও আক্রান্ত হয়ে আটকা পড়ে আছে, তারা নিরাপদে অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসুন, এই কামনা করা ছাড়া আসলে আমাদের।কিছু করার নাই।
আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। জানিনা জঙ্গিদের, উগ্রবাদিদের, আজকের নৃশংস ঘটনার পরেও তাদেরকে সমর্থন দিয়ে যাবেন কিনা আমার আশেপাশের মানুষেরা। প্রতিটা মৃত্যুই বেদনাদায়ক। হাদির মৃত্যুর জন্য যেমন শোক করতে হবে, ছাত্রলীগের কর্মীকে গাছে ঝুলিয়ে আগুণে পুড়িয়ে দেওয়া, ফলা কেটে হ ত্যা করাকেও কনডেম করতে হবে। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে যা করা হলো সেটারও প্রতিবাদ করতে হবে। আমি জানি আপনাদের অনুভুতি শুধুমাত্র জাগ্রত ছিল গত বছর জুলাই আগস্টে, তারপরও দেখেন পারেন কিনা বিবেক জাগাতে।
