যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। ১ জানুয়ারি ২০২৬, লোয়ার ম্যানহাটানের সিটি হলের সামনে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন তিনি। শপথবাক্য পাঠ করান ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এই অভিষেক অনুষ্ঠান রূপ নেয় জনসমুদ্রে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে নানা ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষ অংশ নেন ঐতিহাসিক এ আয়োজনে। নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এই প্রথম মেয়রের অভিষেক উপলক্ষে ‘ব্লক পার্টি’ আয়োজন করা হয়।
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি চার বছরের জন্য নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। তিনি একই সঙ্গে নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র এবং শতাব্দীর কনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন।
অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ মামদানিকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “এটি নিউইয়র্ক সিটির জন্য এক নতুন যুগের সূচনা। ভয়ের বদলে আমরা সাহস বেছে নিয়েছি। জোহরান মামদানি শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন মেয়র।”
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাঁর বক্তব্যে বলেন,“এই সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণা ও বিভাজনের মুখে, নিউইয়র্কবাসী মামদানিকে বেছে নিয়ে গোটা দেশকে আশা দেখিয়েছে সরকার সবার জন্য কাজ করতে পারে, শুধু ধনী ও ক্ষমতাবানদের জন্য নয়।”
নবনির্বাচিত মেয়র মামদানি তাঁর প্রথম ভাষণে বলেন, “এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে, যখন পরিবর্তনের চাবিকাঠি জনগণের হাতে থাকে। আমরা সব সময় সফল নাও হতে পারি, কিন্তু সাহস করে চেষ্টা না করার অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে কেউ তুলতে পারবে না।”
অভিষেক ঘিরে সিটি হলের আশপাশের সাতটি ব্লকে ‘ইনাগুরেশন অব আ নিউ এরা’ নামে ব্লক পার্টি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৪০ হাজারের বেশি নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। বড় স্ক্রিনে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন মার্কিন অভিনেতা ও গায়ক ম্যান্ডি প্যাটিনকিন। উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিও, বিদায়ী মেয়র এরিক অ্যাডামসসহ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগ্রেসিভ নেতারা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পিউ বনিক বলেন, “মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা উপেক্ষা করে মানুষ এসেছে। আমরা আশা করি, নতুন মেয়র বাংলাদেশি ও সংখ্যালঘু কমিউনিটির জন্য কাজ করবেন।”
আরেক দর্শনার্থী হাদিসুল ইসলাম বলেন, “একজন মুসলিম মেয়র পেয়ে আমরা গর্বিত। সাশ্রয়ী আবাসন, বিনা মূল্যে গণপরিবহন, ইউনিভার্সাল চাইল্ডকেয়ার ও ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি তিনি বাস্তবায়ন করবেন এটাই প্রত্যাশা।”
এর আগে ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পরিত্যক্ত ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে সীমিত পরিসরে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন মামদানি। সেদিন তাঁকে শপথ পড়ান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি ও মা প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার মীরা নায়ার।
