ফোরটিন ডেস্ক : বাংলাদেশের সংবিধানে আনয়ন করা হচ্ছে আমূল ও ঐতিহাসিক পরিবর্তন। সংবিধানে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর দেওয়া স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা। বিপরীতে বাদ পড়তে যাচ্ছে বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি, তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিকৃতি টাঙানোর বাধ্যতামূলক অনুচ্ছেদগুলো।
একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংবিধানে পুনর্বহাল করা হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান। পাশাপাশি সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জুলাই যোদ্ধাদের অসামান্য অবদান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট, ২০২৬) বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এই বৈপ্লবিক প্রস্তাবনাগুলো সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদ গঠিত এই বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও জুলাই সনদের আলোকে সংবিধানে একাধিক যুগান্তকারী পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের মূলনীতিতে থাকা ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। বাতিল হচ্ছে পঞ্চদশ সংশোধনীর অস্পষ্ট ও ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ।
এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য আনতে দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, একাধিক ডেপুটি স্পিকারের পদ সৃষ্টি, নারীদের আসন বৃদ্ধি এবং নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত এমপিদের পদ বাতিলের মতো আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ১২ সদস্যের এই সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির নেতারা জানান, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা ও একদলীয় মানসিকতা থেকে বের হয়ে জনগণের ভোটাধিকার, মানবাধিকার এবং সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সংবিধান পরিমার্জন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
