নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ঐতিহ্যবাহী প্যারিস রোডে ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামে একাত্তরের চিহ্নিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ যুদ্ধাপরাধীর ছবি সংবলিত বিতর্কিত বিলবোর্ড স্থাপনের ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে সেই আপত্তিকর বিলবোর্ডটি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা গেছে, ‘নভো-কালচার’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন রাকসুর (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। একাত্তরের দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের এভাবে প্রকাশ্যে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর শিকার হিসেবে প্রদর্শনের বিষয়টি সামনে আসতেই ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার (২ আগস্ট) থেকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রক্টর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে। পরে প্রশাসনের সাথে বৈঠকের ভিত্তিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আপত্তিকর ছবিসংবলিত বিলবোর্ডটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের প্রাচীনতম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেছে। রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ্-হিল-গালিব স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের এভাবে উপস্থাপন করা বিচারব্যবস্থা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম আঘাত ও অবমাননা।
বিবৃতিতে ছাত্রলীগ নেতারা বিলবোর্ড অপসারণের দাবিতে রাজপথে নামা প্রগতিশীল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং একাত্তরের দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের যেকোনো প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদদের ত্যাগ এবং স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে যেকোনো ধরনের বিকৃতির চক্রান্ত রুখে দিতে তারা রাজপথে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন।
