একটি প্রশ্ন সকলের মনেই ঘোরে যা তারেক রহমান কি ব্রিটিশ নাগরিক? আমারও একটি প্রশ্ন। আসুন যুক্তির তর্কের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করি। তবে ঘটনা এবং তথ্য এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয় যে তারেক রহমান “নিশ্চিতভাবে ব্রিটিশ নাগরিক” কি না। বিভিন্ন তথ্য ও দাবির ভিত্তিতে এই বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
আমি যদি বলি তারেক রহমান ব্রিটিশ নাগরিক তাহলে ভুল হবে না— হ্যাঁ, তারেক কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে বিবেচিত ছিল। ২০১৫ সালে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে একটি কোম্পানি (White and Blue Consultants Limited) রেজিস্টার করেছিলেন। সেই রেজিস্ট্রেশনে তার ন্যাশনালিটি হিসেবে “British” উল্লেখ ছিল। তখন থেকেই সরকারের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে তারেক ব্রিটিশ নাগরিক হয়েছেন। এছাড়া, তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন; এবং ২০০৮ থেকে লন্ডনে আছেন, এবং ২০১৩ সালের পর থেকে তার ভার স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (Indefinite Leave to Remain, ILR) আছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু এর বিরোধী যুক্তি ও সংশয় রয়েছে — তারেক রহমানের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিশ্চিত নয়। যদিও ২০১৫ সালের কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনে “British” লেখা হয়েছিল, পরে ২০১৬ সালে একই কোম্পানির নথি সংশোধন করে তারেক নিজেকে “Bangladeshi by birth” হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁর পার্টি (Bangladesh Nationalist Party — BNP) দাবি করেছে, তিনি শুধুই যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন; এর মানে এই নয় যে তিনি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন বা ব্রিটিশ নাগরিক হয়েছেন। অনেক আইনগত ও অনানুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পরিষ্কার নয় — বিশেষ করে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট সংক্রান্ত অফিসিয়াল নথি জনসমক্ষে নেই।
তবে সামগ্রিক বিবেচনায় জনাব তারেক রহমান ব্রিটিশ নাগরিক কিনা — তা প্রমাণিত নয়। ২০১৫ সালের কোম্পানি নথি অনুযায়ী “British” লেখা ছিল — তবে পরবর্তীতে সে অংশ সংশোধন করা হয়েছে। তবে তার স্থায়ী বসবাস (permanent residence / ILR) আছে যুক্তরাজ্যে।
“তারেক রহমান ব্রিটিশ নাগরিক” — এই দাবির পক্ষে কিছু নথিপত্র রয়েছে, কিন্তু একই সময়ে সেই নথি পরে সংশোধন করা হয়েছে এবং তাঁর প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, তিনি এখনও বাংলাদেশি নাগরিক। তাই — নাগরিকত্বের বিষয়ে নিশ্চিত নয়।
বর্তমান সময়ে বেগম খালেদা জিয়া যখন খুবই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন তখন ইন্টেরিম সরকার বারবার তার ট্রাভেল পাসের কথা বলছেন। ব্রিটিশ পাসপোর্ট হলে তো তার ট্রাভেল পাসের দরকার নেই। এনভিসি ভিসা লাগবে তার বাংলাদেশে আসতে। যদিও সেটা ট্রাভেল পাসের মতোই কাজ করে। আবার যেহেতু বিগত সরকার তার পাসপোর্ট রিনিউ করেনি তাই তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেও সেটার মেয়াদ শেষ অনেক আগেই। তারপর তিনি আর বাংলাদেশী পাসপোর্ট করেছেন বলে কোন নথি নেই। এমনকি তিনি লন্ডনের বাইরে কোথাও যাননি। তাই তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
