ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরের ৩৬ দিনে সারাদেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়, যা চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতার মাত্রা আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার যদি মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, বর্তমান নির্বাচনি পরিবেশে সহিংসতা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হেনস্থা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের মতো একাধিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই সময়ের মধ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে পুরনো ধারা অব্যাহত থাকা, অযৌক্তিক মামলা দায়ের, বিনা বিচারে আটক এবং জামিনযোগ্য মামলায় দীর্ঘদিন জামিন না দেওয়ার মতো বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বা ‘মব’ সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়। গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি, বলপূর্বক দাবি আদায় এবং অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের চাপে সাফল্য পাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কৌশল বা দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
