নিজস্ব প্রতিবেদক
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা ও প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে এ খাতে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়। সেই সমালোচনার প্রেক্ষাপটেই আসন্ন গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণভোটে নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসি জানায়, আসন্ন গণভোটে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর পক্ষে কোনো ধরনের প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন। তবে তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে কোনোভাবে আহ্বান জানাতে পারবেন না।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা আইন অনুযায়ী একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, গণভোটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো পক্ষের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা এবং এ জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ও সমালোচনা ওঠে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেই বিতর্কের মধ্যেই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এই অবস্থান নিয়েছে।
ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তারা আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
