চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে । বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো–নামানোর কাজে যোগ দেননি বন্দর কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিকরা।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে বন্দরে এ অচলাবস্থা চলছে।
ফলে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো–নামানোর কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন শনিবার ও রবিবার বন্দর শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনে অংশ নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা–মিছিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালে এনসিটি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে কিছু কর্মচারী বন্দর ভবন চত্বরে মিছিল করেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী বলেও উল্লেখ করা হয়।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারির পরও পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। পাশাপাশি এনসিটি ইজারা ও হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে বন্দরের কারশেড ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শ্রমিকরা।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা এনসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিস্থিতি নিয়ে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দ্রুত সমঝোতা না হলে বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
