নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার সৃষ্টির প্রতিবাদ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ড’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানবন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক অভিযোগ করে বলেন, “মানিক পশারীর মরদেহ যেদিন পিরোজপুরে আনা হয়, সেদিন আমি পুষ্পমাল্য নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়েছিলাম। সেখানে একদল লোক জড়ো হয়ে আমাদের হাত থেকে পুষ্পমাল্য কেড়ে নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় যে আমরা সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হই। পরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে মরদেহ পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হয় এবং সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।”
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য আবদুর রাজ্জাক সরদার স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৭১ সালে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার সময় মানিক পশারী আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নানাভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। যে মানুষটি দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন, তাঁর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্বজনদের হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হবে, আটকে রাখা হবে এবং পরিবারের কাউকে বাড়িতে আসতে দেওয়া হবে না।
পরিবারের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার সকালে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে এলে সেখানে বাধার মুখে পড়েন। পরে রাতে পুলিশ লাইন্সে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রাত দেড়টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে তিন নারী মিলে তাঁর কবর খুঁড়ছেন—এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্যতম সাক্ষী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী।
