নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে দেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সারা দেশে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তরুণ উদীয়মান নেতা মো. আজিজুল ইসলাম। কেশবপুরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ‘খন্দকার আব্দুল আজিজ’ নামে পরিচিত ও প্রিয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেশবপুর উপজেলার রাজনীতি থেকে উঠে আসা কর্মীবান্ধব ও জনপ্রিয় এই সাবেক আইনপ্রণেতা বর্তমানে দেশের চরম রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দলের কঠিন সংকটের মধ্যেও দমে যাননি।
রাজনৈতিক গুরু এএসএইচকে সাদেক ও ইসমাত আরা সাদেকের দেখানো পথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বেড়ে ওঠা এই নেতা বর্তমানে দেশে আত্মগোপনে থেকেই রাজপথ, সাইবার জগৎ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের জন্য অবিচল সাহসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট কেশবপুরে তাঁর নিজ বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানো হয়। দুষ্কৃতকারী জামায়াত ,বিএনপি, এনসিপির জঙ্গিরা তার বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি পরিবারের কোমলমতি শিশুদের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত চেষ্টা চালায় এবং অমানবিক নির্যাতন চালায়। বিগত দুই বছর ধরে ঘরবাড়িছাড়া এই সাবেক এমপির বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা দেওয়া হয়েছে। একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ফেরারি আসামি হলেও দলের প্রতি আনুগত্য ও দেশপ্রেমের নীতিতে অটল থেকে তিনি নিরলসভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের একটি গোপন স্থান থেকে প্রতিনয়ত নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সরব বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন খন্দকার আব্দুল আজিজ। বর্তমান বৈরী পরিস্থিতিতে দেশে অবস্থান করে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া সাহসী বক্তব্য কেশবপুরসহ সারা দেশের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখছে।
আত্মগোপনে থেকেও তিনি ভুলে যাননি নিজ নির্বাচনী এলাকার মেহনতি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কথা। কারাবরণকারী কর্মীদের পরিবারের কাছে এবং কারাগারে পিসিতে (পিস ফান্ডে) বিভিন্ন উপায়ে সাধ্যমতো আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন। তৃণমূলের বাড়িছাড়া কর্মী ও তরুণদের অর্থনৈতিক সংকট বিবেচনায় রেখে প্রতি মাসে নিয়ম করে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিকাশ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের ন্যূনতম চলার খরচ পাঠাচ্ছেন। দলের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রায় অর্ধশত মিছিল ও কৌশলী রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পন্ন করিয়েছেন তিনি। মাঝেমধ্যেই নিজের পরিচয় গোপন রেখে দলীয় মিছিল-সমাবেশে সশরীরে অংশ নিয়ে সবাইকে চমকে দিচ্ছেন।
ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা এই তরুণ সাবেক সংসদ সদস্য কেশবপুর উপজেলার সকল অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিং ভুলে সবাইকে এক হয়ে দল পুনর্গঠনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর, জেলা পর্যায় এবং রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে প্রায় শতাধিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীকে নিজের দায়িত্বে রেখে নীরবে মাঠের আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন তিনি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ডিসেম্বরে দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াকে সফল ও মসৃণ করতে প্রতিনয়ত রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সব বাধা পেরিয়ে কেশবপুরের নেতাকর্মীদের সুরক্ষিত রেখে এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা নিয়ে রাজপথে অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন লড়াকু এই সাবেক ছাত্রনেতা।
আজিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আন্দোলনে দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মাঠে সাহসী ভূমিকা রাখবেন। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই হাতছাড়া হতে দেবেন না বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
