নিজস্ব প্রতিবেদক
পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামে দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার পর থেকে পরিবার নিয়ে গ্রামছাড়া জলিল শেখ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর দোকানে আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে গ্রামে ফেরেননি তিনি। জলিল শেখ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার একজন সাক্ষী।
একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বাড়িতেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আগুন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা সামনে এলে সাঈদীর মামলার সাক্ষীদের ওপর হামলা ও তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, মানিক পশারীর বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরাই জলিল শেখের দোকান পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে তিনি জানেন। দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার পর পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান জলিল। এরপর আর গ্রামে ফেরেননি।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর সদর থানায় মামলা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন মানিক পশারী। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালে তিনি সাক্ষ্য দেন। জলিল শেখও ওই মামলার একজন সাক্ষী ছিলেন।
মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়ার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার সকালে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তাঁর মরদেহ পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামে নেওয়ার পর জানাজা, গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের একাংশ তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেন। এমনকি পারিবারিক কবরস্থানে খোঁড়া কবর মাটি ফেলে ভরাট করে দেওয়া হয়।
পরে গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ লাইনসে জানাজা ও গার্ড অব অনারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাদের কেউ কেউ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। প্রশাসন তাঁকে সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বলে জানালে আর বাধা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট এক নেতা।
চিতলিয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা নিরাপত্তার আশঙ্কায় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। মানিক পশারীর দাফনে বাধা এবং জলিল শেখের দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
