নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর টিপসই ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভুয়া এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাটুলী গ্রামে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এলাকায় যাতায়াতের সুবাদে আব্দুল কদ্দুছ নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় আব্দুস ছাত্তারের মাধ্যমে তাকে একাধিকবার বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি প্রতিবারই তা নাকচ করে দেন।
পরবর্তীতে দেড় মাস আগে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আব্দুস ছাত্তার কৌশলে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট ছবি এবং কাগজে টিপসই নেন। সম্প্রতি আব্দুল কদ্দুছের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের একটি এফিডেভিট ও কাবিননামা তৈরি করে গ্রামে প্রচার চালানো হয়। এতে ৫ সন্তানের জননী ওই নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং সমাজে মুখ দেখাতে পারছেন না বলে জানান।
তদন্তে জানা গেছে, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর দেখিয়ে পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রারের সিলযুক্ত একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে থাকা আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না; আব্দুস ছাত্তার ও আব্দুল হেকিম মাস্টার টাকার বিনিময়ে এসব জালিয়াতি করেছেন।
এদিকে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার গোলাম মোস্তফা জানান, তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে এই ভুয়া কাবিননামাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগে নাম আসা আব্দুস ছাত্তারের কাছে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফোন করা হলে তিনি পরবর্তীতে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন এবং পরে আর যোগাযোগ করেননি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ ডাকা হলেও অভিযুক্ত ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়নি।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ভুক্তভোগী নারী লিখিত অভিযোগ দিলে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
