ফোরটিন ডেস্ক : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনকে ঘিরে ‘পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের’ চাঞ্চল্যকর সত্য সামনে এসেছে। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন ‘দ্য রেড জুলাই’-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সজীব হোসেনের এক ফেসবুক পোস্টের পর এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সজীব হোসেন তাঁর নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে স্বীকার করেছেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর এই পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘাত উসকে দিতে তিনি নিজে ছাত্রলীগের এক কর্মীর মাথায় পাথর মেরে প্রথম সহিংসতা শুরু করেছিলেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে মূল সত্য উদঘাটনে পদক্ষেপ নিচ্ছ। পুরো ঘটনার পেছনে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, ১৫ জুলাইয়ের সহিংসতার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা কলকাঠি নেড়েছিল তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পোস্টে সজীব হোসেন জানান, ঘটনার দিন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা গোপন ব্লকের সাবেক ৬ জন সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে তিনি এই হামলা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ হয়ে যখন ছাত্রলীগের কর্মীরা ধাওয়া দেয়, তখন সেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ছাত্রলীগের হামলা’ হিসেবে প্রচার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামানো হয়।
রাজনীতি বিশ্লেষকেরা বলছেন, সজীবের এই স্বীকারোক্তি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তোলা ‘সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগকে শতভাগ সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও একাধিকবার বলেছিলেন যে, এই আন্দোলন কোনো কোটা সংস্কার আন্দোলন নয়, বরং গণভবন দখলের এক দেশি-বিদেশি চক্রান্ত।
তারা আরও উল্লেখ করেন যে, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদালয়ে ইচ্ছেকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে নীলনকশা করা হয়েছিল, তা আজ আয়নার মতো পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং ষড়যঞ্চলের মাধ্যমে সরকার ফেলার এমন জঘন্য স্বীকারোক্তিতে দেশপ্রেমিক জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। মিথ্যা আন্দোলনের আড়ালে দেশ ধ্বংসকারী চক্রের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
তদন্তকারী সংস্থাসমূহ ফেসবুক পোস্টের ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই সম্পূর্ণ করার পর আদালতে চূড়ান্ত আইনি প্রতিবেদন পেশ করবে।
