ফোরটিন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে মধ্যরাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ঘটনা তদন্তের পর প্রাথমিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল রোববার রাতে স্টেশনে দায়িত্ব পালনরত রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে কথা-কাটাকাটির জের ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে।
রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানান, শিক্ষার্থীকে প্রহারের অভিযোগ ওঠায় নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও রেলওয়ে পুলিশ প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত শেষ করেছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশি টহল জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং মামলা সংক্রান্ত আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, কাচের জানালা এবং পার্সেল অফিসে ভাঙচুর চালালে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, হামলায় জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আমরা আন্দোলন আরও তীব্র করব।”
তিনি আরও জানান যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’ কর্মসূচি পালনের অংশ হিসেবে স্টেশনে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের এমন বিক্ষোভ ও স্টেশন ভাঙচুরের ফলে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিলসহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মুখোমুখি হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে রাত ১টা ২০ মিনিটে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে গেলে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
