নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও ভাবিকে দা দিয়ে কুপিয়ে এবং আট মাস বয়সী নিষ্পাপ ভাতিজিকে আছড়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমন (২৪) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত যুবক ইমনকে হাতেনাতে ধরে ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে স্থানীয় দেবিদ্বার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গেছেন। আটককৃত অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে এনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা জব্দ করাসহ আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষ করে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো মর্গে পাঠানোর পাশাপাশি থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহতরা হলেন ইমনের মা পেয়ারা বেগম, আট মাসের ভাতিজি এবং ভাবি রাবেয়া বেগম। সকাল সাড়ে আটটার দিকে ইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ঘরের সদস্যদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় বলে প্রতিবেশীরা জানান।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
তিনি আরও জানান যে ইমনের কোপে তাঁর মা পেয়ারা বেগম ও ভাতিজি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর জখম অবস্থায় রাবেয়া বেগমকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা গেলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই পরিবারের তিন সদস্যকে এভাবে মর্মান্তিক ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো দেবিদ্বার এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার কঠোর ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত শেষ করে আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট পেশ করবে।
