ফোরটিন ডেস্ক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পূর্বে জ্যাকসন হাইটসের একটি সড়কের পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই পৃথক অবস্থান নিয়ে উসকানিমূলক ও ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেওয়া শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ) তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপে নেমে দুই পক্ষের হাতাহাতির পরিস্থিতি সামাল দেয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় পক্ষকে স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ও সিটি প্রশাসন ইতোমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। অধিবেশন চলাকালে এবং সফর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দফতর ও জ্যাকসন হাইটস এলাকার সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে।
সোমবার তারেক রহমান নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সফর ঘিরেই গত কয়েক দিন ধরে প্রবাসীদের মাঝে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “যেকোনো সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি।”
জ্যাকসন হাইটসে দায়িত্বশীল বিএনপি নেতারা ফেস্টুন ছেঁড়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান জানান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধি বা নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। [DETAIL NEEDED: নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি]।
প্রবাসী রাজনৈতিক দলগুলোর এমন মুখোমুখি অবস্থান ও হাতাহাতির ফলে স্থানীয় প্রবাসীদের নিত্যদিনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন চলাচলে চরম উদ্বেগ এবং বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ প্রদানের পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী আইনি ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হবে।
