নিজস্ব প্রতিনিধি: নারী ও শিশু সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা সেবা চালু থাকলেও এসব সেবার মধ্যে সঠিক সমন্বয়, তথ্যের অভাব ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ প্রয়োজনীয় আইনগত ও সুরক্ষামূলক সহায়তার তথ্য না পাওয়ায় সময়মতো বিচারপ্রার্থী হতে পারছেন না।
গত বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার ও সেবা প্রদান জোরদারকরণ’ শীর্ষক এক অংশীজন সংলাপে এসব উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এই সংলাপের আয়োজন করে।
উদ্বেগজনক সহিংসতার চিত্র: আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসের (জানুয়ারি-জুলাই) একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান পেশ করা হয়:
- নারীদের ওপর সহিংসতা: সাত মাসে ৪০০টি ধর্ষণ, ধর্ষণের পর ৩৭টি হত্যাকাণ্ড এবং ১৫২টি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া ১৯১টি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে।
- শিশুদের ওপর নির্যাতন: শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬০৬টি। এর মধ্যে ২৪১টি শিশুধর্ষণ এবং ২১৩টি শিশু হত্যার শিকার হয়েছে।
- মানব পাচার: ২০২৫ সালে ১,১২৬টি নতুন মামলা এবং ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত তদন্তাধীন/বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,২৮৪টিতে।
আইনগত সহায়তা ও সেবা ব্যবস্থার জটিলতা: জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৮ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ সরকারি আইনি সেবা পেয়েছেন। তবে সংলাপে মূল নিবন্ধে বলা হয়, জটিল আবেদন প্রক্রিয়া, ধীরগতির সভা ও আপিল ব্যবস্থার কারণে এই সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।
তাছাড়া দেশে ৯৫টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) ও সেল থাকা সত্ত্বেও বহু কেন্দ্রে ফরেনসিক, মনোসামাজিক সহায়তা ও পৃথক কাউন্সেলিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত ল্যাব ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি রয়েছে।
সংলাপে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজমিন সুলতানা, উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম, ডা. তাইয়েবা সুলতানা এবং নারীপক্ষের কামরুন্নাহারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত তদারকি জোরদারের ওপর বিশেষ জোর দেন।
