কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ায় ‘গরু চুরি করতে গিয়ে’ জনতার হাতে এক জুলাই সংঘাতের সমন্বয়ক তথা স্থানীয় ছাত্রশিবির নেতা আটক হওয়ার খবর ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার উখিয়ার এক স্থানীয় গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত নেতার নাম সাঈদী, যাকে স্থানীয় জনতা একটি গরুর সাথে বেঁধে রাখে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে গরুর সাথে শক্ত করে বেঁধে রেখেছেন। ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, “অনেক বড় নেতা! গরু নেতাকে বেঁধে রাখো, ভিডিও করো!”
অন্যদিকে, সাঈদীর ওপর অন্যায়ভাবে হামলা ও তাকে পরিকল্পিতভাবে অপদস্থ করার অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় জামায়াত-শিবির। সংগঠনটির দাবি, সাঈদীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তারা জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাঈদী এলাকায় গরু চুরি করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা তাকে চুরির অপরাধে গরুটির সাথেই বেঁধে রাখে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, “সৎ লোকের শাসনের প্রচারণা চালানো একটি রাজনৈতিক দল এখন নিজেদের অপরাধী নেতাকে বাঁচাতে উল্টো সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপাচ্ছে। তারা সুবিচার না করে উল্টো মিছিল ও গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, যা তাদের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করে দিল।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো উখিয়া এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
