ফোরটিন ডেস্ক : কুমিল্লার চান্দিনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অন্তত ৫৯ নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ১৫ জনের স্বাক্ষর নিয়ে সম্প্রতি চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারীরা জানতে পারেন, তাদের দেওয়া অভিযোগের নথি সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম এবং জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী আবুল হোসেনের নাম উঠে এসেছে।
জোরপুকুরিয়া গ্রামের রাশিদা বেগমের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল হোসেন তার এবং তার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেন। পরে বিষয়টি এলাকার কয়েকজনকে জানালে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহানসহ কয়েকজন নারীও একই অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও তারা কোনো কার্ড পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা খোরশেদ আলম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জোরপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের কথামতো ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নিয়েছেন। চান্দিনা সদরে যাতায়াত এবং অনলাইনে আবেদন করার খরচ হিসেবে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল হোসেনও টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, তিন গ্রাম থেকে মোট ৫৯টি আবেদনের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ও কাগজপত্র এখনো তার কাছে রয়েছে এবং যারা টাকা ফেরত চাইবেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
চান্দিনায় এখনো ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, আগে কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে রাখা হয়েছে। কর্মসূচি চালু হলে তখন কার্ড দেওয়া হবে।
মহিচাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, খোরশেদ আলম ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেও আবুল হোসেনের দলের কোনো পদ-পদবি নেই। তারা এ ধরনের কাজ করে থাকলে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়ে থাকলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
