ফোরটিন ডেস্ক : বিয়ের কথা বলে এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলাটি করা হয়। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
অভিযুক্ত জাহিদ মুন্সি (২৬) কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনসেফপুর এলাকার জাকির মিস্ত্রির ছেলে। তিনি এনসিপির কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগ ওঠার পর জাহিদ মুন্সিকে দলীয় সব পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির গাজীপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এম শোয়াইব। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জাহিদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক সব দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দুই কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয়েছে।
মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে
এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে কালীগঞ্জের একটি শপিং কমপ্লেক্সে জাহিদ মুন্সির দোকানে ঘড়ি কিনতে গেলে তার সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে জাহিদ বিয়ের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন। এতে তিনি রাজি না হলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তার মুখমণ্ডল বিভিন্ন অশ্লীল ছবির সঙ্গে যুক্ত করে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য অনুরোধ করলে জাহিদ বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী কলেজে যাওয়ার পথে জাহিদ তাকে মহানগরীর পূবাইলের মিরের বাজার এলাকার একটি গেস্টহাউসে নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একই দিন বিকেলে তাকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের অনার্স ভবনের পেছনে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। সেখানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জাহিদ তার কাছে থাকা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের বিয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগ
ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি জানার পর জাহিদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিলে তিনি এর আগে একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তার একটি সন্তান রয়েছে বলে জানতে পারেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে বিয়ের প্রলোভন এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জাহিদ ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ মুন্সির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এরই মধ্যে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
