নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের উজিরপুরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান সুজন (২৭)। আটকের পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে তাকে মুক্ত করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট, ২০২৬) গভীর রাতে উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চকমান গ্রামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আটক সুজন উপজেলার কেশবকাঠী-হাবিবপুর গ্রামের মো. Shahজাহান হাওলাদারের ছেলে। সুজন বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে চকমান গ্রামের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আল আমিন তালুকদারের বাড়িতে এক নারীর সাথে সুজনকে অনৈতিক অবস্থায় দেখতে পান এলাকাবাসী। ওই বাড়িতে সুজনের দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহজনক যাতায়াত ছিল। ঘটনার রাতে ওৎ পেতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে ফেলেন। আটকের পর বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সুজনকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে।
উত্তেজিত জনতা তাঁকে উজিরপুর থানায় সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিলেও স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উত্তর চকমান রেজিস্ট্রি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহীন মাস্টারের হস্তক্ষেপে ঘটনা ধামাচাপা পড়ে এবং সুজনকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এই মিটমাটের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সুজনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রদলের এই সাবেক নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী চাঁদাবাজির বহু অভিযোগ রয়েছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সুজন বলেন, “মেয়ের বাবার ফোন পেয়েই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতিপক্ষ চক্রান্ত করে এই নাটক সাজিয়েছে।”
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো বরিশালজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। দলীয় পরিচয়ের আড়ালে এমন অপকর্মের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
