নিউইয়র্ক: বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নির্বাচনে যোগ্য, শিক্ষিত ও দক্ষ প্রার্থীদের নেতৃত্বে আনার পাশাপাশি ভোট কেনাবেচার সংস্কৃতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী রাব্বি সৈয়দের ‘Voice for Change’ শিরোনামে জ্যামাইকার একটি পার্টি হলে আয়োজন করা হয় বিশেষ মতবিনিময় সভা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাংলাদেশ সোসাইটি শুধু একটি সামাজিক সংগঠন নয়, এটি নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, অধিকার ও কল্যাণের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও কমিউনিটির জন্য কাজ করার মানসিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
জ্যামাইকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটারদের অর্থ বা নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে। তাদের দাবি, ২০ ডলারের মতো সামান্য অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনাবেচার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নষ্ট হয় এবং সংগঠনের নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়।
তারা বলেন, ‘আমরা চাই ভোটাররা নিজের বিবেক ও যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোট দেবেন। সামান্য অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যারা শিক্ষিত, সৎ, দক্ষ এবং দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির জন্য কাজ করছেন, তাদেরই নেতৃত্বে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
এলাকাবাসীর আরও দাবি, নির্বাচনী পরিবেশ হতে হবে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক। ভোটারদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের মতে, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করতে হলে যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ভোট কেনাবেচা বা অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা বন্ধে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জ্যামাইকার বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রার্থীরা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং ভোটাররাও অর্থের প্রলোভন নয়, যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিবেচনা করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
