নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় মাদক বিক্রির পাওনা মাত্র ৩ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শরিফুল ইসলাম হিরা (৪০) নামের এক আওয়ামী যুবলীগ নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তিনি গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক পদে নিয়োজিত ছিলেন।
শনিবার (৮ আগস্ট, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার রেল স্টেশন সংলগ্ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তোড়াইড় মোড় এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শরিফুল ইসলাম হিরা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত জাবেদ ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী পাড়া গ্রামে নিজ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাজবাড়ী গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযুক্ত প্রধান ঘাতক কামরুল ফকিরকে (৩৬) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। কামরুল গোয়ালন্দ পৌরসভায় ইজিবাইকের টোল আদায়ের কাজ করতেন। সে কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্যমতে, নিহত হিরা ও ঘাতক কামরুল পূর্বে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাদক বিক্রির ৬ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কামরুল নিহত হিরার কাছে এই টাকা পেতেন। গত সপ্তাহে হিরা ৩ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকি ৩ হাজার টাকা দেওয়া নিয়ে দুই দিন আগে তাঁদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়।
এরই জের ধরে শনিবার সকালে হিরা গোয়ালন্দ বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তোড়াইড় মোড় এলাকায় পৌঁছালে কামরুল আগে থেকে ওত পেতে থেকে তাঁর পাঁজরে পাজরে ধারালো ছুরি বসিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. রুমেল হাসান জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাওনা ৩ হাজার টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়েই অভিযুক্ত কামরুল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
