নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে এক হাতে লোহার হাতকড়া পরা অবস্থাতেই বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার শেষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখ।
শনিবার (৮ আগস্ট, ২০২৬) বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ৮ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। পরবর্তীতে রাত ১১টায় কোটালীপাড়া পৌর ভবন মাঠে আয়োজিত বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন কামাল। জানাজা পর্ব শেষ হওয়া মাত্রই কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে পুনরায় কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র কামাল হোসেন শেখের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমান (৯৭) গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। মরহুম শেখ লুৎফর রহমান কোটালীপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া শাহানা রশিদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধিক স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সক্রিয় ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাবার মৃত্যুর পর শেষ শ্রদ্ধা জানানো ও জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কামালের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হয়। আবেদনের পর কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ৮ ঘণ্টার জন্য প্যারোল মঞ্জুর করে। পুলিশের একটি সুসজ্জিত প্রিজন ভ্যানে করে কামালকে ঢাকা থেকে কোটালীপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় গাড়ি থেকে নেমে বাবার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ জানান, সাবেক মেয়র কামাল হোসেন শেখের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। সেই মামলায় বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। প্যারোলের শর্ত মেনে নির্ধারিত সময় শেষে তাকে আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার বাদ আসর পৌর ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফর রহমানের প্রথম জানাজা এবং রাত ১১টায় পৌর ভবন মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে পঞ্চপল্লী কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
