ফোরটিন ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ভাত খাইয়ে মর্মান্তিকভাবে পিটিয়ে হত্যা করা তোফাজ্জল হোসেন হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পার হলেও এখনো শুরু হয়নি বহুল আলোচিত এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ। মামলার মোট ২৮ আসামির মধ্যে অভিযোগপত্র গ্রহণের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ১৭ জন পলাতক আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে হলের ভেতরে তোফাজ্জলকে ভাত খাইয়ে নৃশংসভাবে মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিন শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। শাহবাগ থানার তদন্ত শেষে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাতে নারাজি আবেদন জানায়। পরবর্তীতে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিলে সংস্থাটি গত ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে নতুন অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ১০ মার্চ আদালত তা গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তবে পরোয়ানা জারির পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলাতকদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বর্তমানে মাত্র দুইজন আসামি কারাগারে থাকলেও নয়জন আসামি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। দুটি বছর পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিরা ধরা না পড়া এবং বিচার প্রক্রিয়ার গতিহীনতায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবারসহ মানবাধিকার কর্মীরা।
