ফোরটিন ডেস্ক : রাজধানীর মিরপুরে মাফিয়া কায়দায় একটি ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নথি জালিয়াতির মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনকে ভবনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৯ আগস্ট দুপুরে। ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, একদল লোক হঠাৎ করে ভবনের সামনে এসে গেট খোলার জন্য চাপ দেয়। তারা ভেতরে মালামাল নেওয়ার কথা বললেও নিরাপত্তারক্ষী মালিকের অনুমতি ছাড়া গেট খুলতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় তাকে চুপ থাকতে এবং কোনো কথা না বলতে বলা হয় বলে জানান নিরাপত্তারক্ষী। প্রথমে ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর সেদিনের ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি।
ভবনের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগে কয়েকজন ব্যক্তি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়ে ভেতরে ঢোকার অভিযোগও রয়েছে।
প্রবাসী ফ্ল্যাট মালিকের দাবি, ভবন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি পক্ষ ফ্ল্যাটটি দখলের চেষ্টা করেছে। পরে ফ্ল্যাটের মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য ভুয়া কাগজপত্র দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের পরিচয়ও পাওয়া যায়। সাদা শার্ট পরা ব্যক্তিকে আওলাদ, ভবনের ভেতরে পায়চারি করা ব্যক্তিকে শামম, টি-শার্ট পরা ব্যক্তিকে মাসুম এবং ফোনে কথা বলা ব্যক্তিকে হারুন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা কায়ুম নামের এক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার বিষয়ে জানা যায়, তিনি আগে যুবলীগের কর্মী ছিলেন এবং বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি পদে রয়েছেন।

সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কায়ুম দাবি করেন, তিনি ওই ভবনে ইন্টারনেট সংযোগের কাজে গিয়েছিলেন।
তাকে প্রশ্ন করা হয়, যে ফ্ল্যাটে তিনি গিয়েছিলেন সেখানে তখনও কেউ বসবাস শুরু করেননি, তাহলে কীভাবে সেখানে ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করতে গেলেন। এ সময় ইন্টারনেট সংযোগের প্রমাণ হিসেবে বিল বা স্লিপ দেখানোর বিষয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়।
এ ঘটনায় মিরপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শামমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শামম জানান, সাবেক কমিশনার আঞ্জুর নির্দেশেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক নারী বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ নিয়ে এলে তাকে কয়েকজনের সঙ্গে সেখানে গিয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তিনি বলেন, সিনিয়র নেতার নির্দেশেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
তবে সাবেক কমিশনার আঞ্জু ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর দায় চাপিয়েছেন। তার দাবি, বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার দায় তিনি নেবেন না।
এদিকে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলাভঙ্গ বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানান।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর ঘটনাস্থলে যাওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি মিরপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ নীরবে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ফ্ল্যাট দখল, জাল কাগজপত্র এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, তাদের ভূমিকা এবং ফ্ল্যাট দখলের পেছনে কারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হবে।
