ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে একজোট হয়েছেন স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতারা। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক বৈঠকে তারা একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এতে সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (SNP) নেতা ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, প্লেইড কাইমরুর নেতা ও ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ ইওরওর্থ এবং সিন ফেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল। সিন ফেইন প্রেসিডেন্ট এবং আয়ারল্যান্ডের বিরোধীদলীয় নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট জাতিগুলোর জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারকে প্রতিটি অঞ্চলে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, তিন দলের সাংবিধানিক অবস্থান এক নয় এবং প্রতিটি জাতি নিজস্ব পদ্ধতি ও নিজস্ব সময়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তবে অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বৈঠকের পর নেতারা ওয়েস্টমিনস্টারের বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ‘ওয়েস্টমিনস্টারের সময় শেষ হয়ে আসছে’ এবং ‘সাংবিধানিক পরিবর্তন আসছে’। এই অবস্থানকে তারা নিজেদের রাজনৈতিক আন্দোলনের পেছনে থাকা জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।
স্কটল্যান্ডের নেতা জন সুইনি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাধীনতা গণভোটের দাবি জোরালো করেছেন। তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের জনগণকে স্বাধীনতার বিষয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তারা স্বাধীনতার পক্ষেই রায় দেবে বলে তিনি মনে করেন। তবে নতুন গণভোটের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান এখনো বিরোধী।
ওয়েলসের নেতা রুন আপ ইওরওর্থও সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে ওয়েলসের স্বাধীনতার প্রশ্নে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়ে তিনি একই ধরনের অবস্থান নেননি। তিনি ওয়েলসের ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইনের নেতা মিশেল ও’নিল আইরিশ ঐক্যের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দলটি ব্রিটিশ সরকারকে সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ও তা সহজতর করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। সরকারের অবস্থান হলো, সাংবিধানিক বিতর্ক বা নতুন গণভোটের পরিবর্তে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের চার জাতির জন্য বাস্তব পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
সোমবারের বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রথমবারের মতো একটি যৌথ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই চুক্তি সরাসরি কোনো বিচ্ছেদ কার্যকর করছে না; বরং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পরিবর্তন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে রাজনৈতিকভাবে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে।
