ফোরটিন ডেস্ক: রুপালি পর্দা কিংবা নাটকের মঞ্চ তার উপস্থিতি মানেই ছিল এক অনন্য আকর্ষণ। কখনো তুখোড় হাস্যরসাত্মক চরিত্র, কখনো কুটিল খলনায়ক, আবার কখনো গভীরভাবে আবেগঘন বাবা কিংবা অভিভাবকের চরিত্রে সব ভূমিকার সঙ্গেই তিনি মিশে যেতেন অনায়াসে। বাংলা অভিনয় অঙ্গনের সেই উজ্জ্বল কিংবদন্তি এটিএম শামসুজ্জামানের আজ ৮৫তম জন্মদিন।
১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি পুরো দেশের মানুষের কাছে ‘এটিএম শামসুজ্জামান’ নামে পরিচিত লাভ করেন। শুধু অভিনয়েই নয়, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক হিসেবেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে তিনি তাঁর দূরদর্শী প্রতিভার ছাপ রেখে গেছেন।
দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য চলচ্চিত্র ও নাটকে রূপদান করা চরিত্রগুলোকে তিনি সাধারণ দর্শকের চোখের সামনে জীবন্ত করে তুলেছেন। নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের সময় দর্শকের ঘৃণা যেমন কুড়িয়েছেন, তেমনি কৌতুক ও মানবিক চরিত্রে অভিনয় করে কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন।
শিল্পচর্চায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে তাঁকে রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চেও তিনি পাঁচবার সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেন ‘দায়ী কে?’ (১৯৮৭), ‘ম্যাডাম ফুলি’ (১৯৯৯), ‘চুড়িওয়ালা’ (২০০১), ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ (২০০৯) এবং ‘চোরাবালি’ (২০১২) চলচ্চিত্রে অনন্য অভিনয়ের জন্য।
২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পরলোকগমন করেন এই গুণী শিল্পী। জীবনের পথচলা থেমে গেলেও তাঁর অনবদ্য কাজগুলো আজও অনুকরণীয় পাঠ হয়ে রয়েছে নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে। জন্মদিনে কোটি ভক্তের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অমলিন হয়ে আছেন এই মহান কিংবদন্তি।
