নিজস্ব প্রতিবেদক : সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরুর চালান দখল ও ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর একটি বড় চালান আসার পর তা হাটে নেওয়া এবং বখরা আদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি রূপ নেয় রক্তাক্ত সংঘর্ষে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের চোখের সামনেই দুই দলের সমর্থকরা একে অপরের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে চড়াও হন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে আসা ভারতীয় গরুর অবৈধ বাণিজ্য ও স্থানীয় পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে মরিয়া দুই পক্ষ। সেই বিরোধ থেকেই আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “ভারতীয় গরুর চালান ও হাটের ঝামেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন অঘটন ঘটায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
