ফোরটিন ডেস্ক: তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত নতুন নীতি অনুযায়ী, বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের চুক্তিতে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই তাঁদের আবার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত সম্প্রতি ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এই বিশেষ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে একটি ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
কী থাকছে নতুন নিয়মে?
- ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল: নতুন মডেল অনুযায়ী, কোনো রুশ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন হলে তারা প্রথমে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। পরবর্তীতে বিশেষায়িত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন করে কর্মী আনা হবে।
- সংস্থার দায়িত্ব: নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাসস্থান ও কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধা দেবে। চুক্তি শেষ হওয়া মাত্রই কর্মীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব থাকবে প্রতিষ্ঠানের ওপর।
- স্বায়ত্তশাসন ও পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত: কর্মীরা চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো এক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ নিতে পারবেন না। আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে এ পরিকল্পনা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
শ্রমিক সংকটের নেপথ্যে: বর্তমানে রাশিয়ায় বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে কমে ২.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যাকে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রায় ৭ লাখের বেশি সেনাকে মোতায়েন করা এবং দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিরক্ষা শিল্পে সাধারণ খাতের কর্মী চলে যাওয়ায় বেসামরিক খাতে চরম কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে আগামী দশকের মধ্যে কোটি কর্মীর ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে রাশিয়ায় কঠোর করা হচ্ছে অভিবাসন নীতি। গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নিয়ম চালু করে অভিবাসীদের ওপর করের বোঝা বৃদ্ধি ও সন্তানদের স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এইচ-২’ (H-2) ভিসার অস্থায়ী কর্মসংস্থান ব্যবস্থার কিছুটা মিল থাকলেও, মস্কো মূলত তাদের দেশে বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী আবাসন সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করতেই কঠোর চুক্তিভিত্তিক এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
