নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ও আবাসিক হলগুলোতে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার থাকা তথাকথিত ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’দের একটি বড় অংশই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির মতো সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত এমন বিস্ফোরক দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে সোচ্চার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাধারণ শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে এক শ্রেণীর শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের জিগির তুললেও আড়ালে তারা নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের ক্যাডার ও কর্মী হিসেবে গুপ্ত রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।
ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের দাবি, ছাত্রলীগের অপরাজনীতি ও গেস্টরুম কালচারের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন একটি স্বাভাবিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ আশা করছিল, তখন একটি বিশেষ মহল ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’-এর বয়ান তৈরি করে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। মূলত এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির মতো সংগঠনগুলো আড়ালে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছে।
সংগঠনটির নেতাদের মতে, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তবুদ্ধির চর্চা, অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বাধাগ্রস্ত হবে। একই সাথে প্রকাশ্য রাজনীতি বন্ধ থাকলে নিষিদ্ধ ও চরমপন্থী সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসে গোপনে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার সুযোগ পাবে।
এদিকে, এই অভিযোগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একদল শিক্ষার্থী যখন শিক্ষাঙ্গনে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধের দাবিতে অটল রয়েছেন, তখন অন্য পক্ষ দাবি করছেন লেজুড়বৃত্তি বন্ধ হলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বমূলক ও সুস্থ ধারার রাজনীতি চালু থাকা জরুরি, তা না হলে গুপ্ত রাজনীতির প্রভাবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখাই তাঁদের মূল অগ্রাধিকার। সব পক্ষের বক্তব্য ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
