নিজস্ব প্রতিবেদন : যশোরে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখার উদ্দীপনায় শেষ মুহূর্তে জল ঢেলে দিয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক। শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও, স্থানীয় একদল মুসল্লির তীব্র আপত্তি ও বাধার মুখে তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্যাশন রিটেইল ব্র্যান্ড ‘সেইলর’ চলতি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় পর্দায় দেখানোর ধারাবাহিক ব্যবস্থা করেছিল যশোর টাউন হল মাঠে। তবে সেখানে বর্তমানে বৃক্ষমেলা চলমান থাকায়, ফাইনাল ম্যাচের টানটান উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তটি উপহার দিতে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে ঈদগাহ মাঠে সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করেই ‘তৌহিদী জনতা’ ব্যানার ও পরিচয়ে একদল স্থানীয় মুসল্লি ঈদগাহ মাঠে এসে জড়ো হন। তারা মাঠের ধর্মীয় পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি তুলে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ না দেখানোর জন্য আয়োজকদের সরাসরি বাধা প্রদান করেন এবং সেখানে একটি বড় ধরনের মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ প্রশাসন। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তারা আয়োজক কমিটি এবং আন্দোলনকারী মুসল্লিদের সাথে দীর্ঘক্ষণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপের কোনো খেলা দেখানো হবে না। এই সিদ্ধান্তের পর আয়োজকরা হতাশা প্রকাশ করে মাঠ থেকে তাদের প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেমসহ যাবতীয় সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলেন।
উক্ত প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ইয়াসিন আরাফাত নামের এক স্থানীয় মুসল্লি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ঈদগাহ মাঠ অত্যন্ত পবিত্র একটি ধর্মীয় স্থান। সেখানে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক জুয়া ও ভিন্ন কালচারের কোনো অপসংস্কৃতি চলতে পারে না। খেলার নামে এখানে সংস্কৃতির অবক্ষয় ঘটবে, তা সচেতন মুসলিম হিসেবে আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অন্যান্য বক্তারাও স্পষ্ট করে বলেন, ঈদগাহ মাঠ কেবল মুসল্লিদের ধর্মীয় ইবাদত ও ঈদের নামাজের জন্য নির্ধারিত একটি সংরক্ষিত স্থান। এমন একটি স্পর্শকাতর স্থানে বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিনোদনমূলক বা বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান আয়োজন মাঠের মর্যাদা ও পবিত্রতার সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে ধর্মীয় স্থানের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এই সমবেত হয়েছেন।
এই বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শহরের সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা আয়োজক কমিটি, জেলা প্রশাসন এবং মানববন্ধনকারীদের সাথে কথা বলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ঈদগাহ মাঠে খেলা প্রদর্শনের আয়োজনটি স্থগিত করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, ফুটবল খেলা বা প্রিয় দলকে সমর্থন করাকে কেন্দ্র করে শহরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে জেলা পুলিশ কঠোর ও সতর্ক নজর রাখছে। একই সাথে শহরের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
