নিজস্ব প্রতিবেদন : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মো. লিটনের ছেলে তাসমির (১৬)-এর এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলেও পরিবারের দাবিতাকে সুপরিকল্পিতভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে অপরাধ ঢাকতে তার মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে একে ‘ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।
নিহত তাসমিরের স্বজন ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এর আগেও তাসমির অন্তত তিন দফা পরিকল্পিত হামলা ও ‘মব’ সহিংসতার শিকার হয়েছিল, যা তার জীবনের ওপর দীর্ঘদিনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে একদল লোক তাসমিরকে তুলে নিয়ে যায় এবং একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে তার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার শরীরে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর গভীর রাতে লাশটি গুণবতী সংলগ্ন রেললাইনের পাশে ফেলে আসা হয়, যেন সবাই এটিকে একটি সাধারণ রেল দুর্ঘটনা বলে মনে করে।
হত্যাকাণ্ডের এই পৈশাচিক রূপ সামনে আসার পর ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে সেখানেও নতুন সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। স্বজনদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তাসমিরকে নির্যাতনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এবং জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনীতির সাথে যুক্ত। এই প্রভাবশালী চক্রটি থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া রুখে দিতে বাদী পক্ষকে লাগাতার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করছে। যার ফলে সন্তান হারিয়েও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে এসব গুরুতর অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে বা দাপ্তরিক সোর্স থেকে শতভাগ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কিংবা অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নিহতের অসহায় পরিবার ও সচেতন এলাকাবাসী কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপমুক্ত থেকে তাসমিরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এবং এর নেপথ্যে থাকা খুনিদের চিহ্নিত করতে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
