আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের অবিশ্বাস্য ও হৃদয়স্পর্শী গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে. ভাইরাল হওয়া একাধিক ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, দেশটির লা গুয়াইরা এলাকার একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে ওই মা টানা ১১ দিন ধরে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে তার তিন সন্তানকে অলৌকিকভাবে জীবিত রেখেছিলেন. পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মা ও শিশু তিন জনকেই জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন.
ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোর বিবরণ অনুযায়ী, লা গুয়াইরার ওপিপি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া ওই জননী চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে কেবল মাতৃত্বের টানে শিশুদের বাঁচিয়ে রাখেন. আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত তাদের চারজনকেই অক্ষত অবস্থায় বের করে আনলে ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে এক পরম ‘অলৌকিক’ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়. গল্পটি প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ ওই মায়ের সাহস, অতুলনীয় আত্মত্যাগ ও মাতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করছেন. নেটিজেনদের অনেকেই তাকে বাস্তবের এক ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করছেন.
তবে এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী কাহিনীর অন্তরালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়ে গেছে. এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক মূলধারার নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যম এই রোমাঞ্চকর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি.
কয়েকটি স্প্যানিশ ভাষার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ডালপালা মেলেছে. এসব প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, গল্পের মূল দাবিগুলো বা ঘটনার কিছু অংশ এখনো স্বাধীন কোনো সূত্র দ্বারা যাচাই করা সম্ভব হয়নি. এমনকি আন্তর্জাতিক দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া একাধিক ভিন্ন ভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য ও বর্ণনা একসঙ্গে মিশে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কাল্পনিক বা অতিশয়োক্তিপূর্ণ রূপটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে.
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সাম্প্রতিক শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়. সেখানে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ হন. বর্তমানে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অলৌকিকভাবে ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করার সত্য ঘটনাও ঘটেছে. তবে এক মা ১১ দিন ধরে শুধু বুকের দুধ খাইয়ে তিন সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার মতো অতিপ্রাকৃতিক দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি. ফলে বিষয়টি বিশ্ব গণমাধ্যমে নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে একটি ‘ভাইরাল দাবি’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে.
