নিজস্ব প্রতিনিধি : দীর্ঘ ২১ মাস ধরে কারাবন্দি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিবুর রহমানের পিতা মো. রবি উল্লাহর মৃত্যু এবং শেষ মুহূর্তে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ছেলের প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে ছেলের শোকে বাবার মৃত্যুর পর এবার জানাজায় উপস্থিত হতে প্যারোলও পেলেন না এই ছাত্রনেতা।
পারিবারিক ও আইনি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানার একটি নাশকতার মামলায় (জি.আর. মামলা নং ৩৭০/২৪) বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন সজিবুর রহমান। গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর ধুকুন্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে তাঁর বাবা মো. রবি উল্লাহ (ছেলের মুক্তির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গতকাল ৮ জুলাই বিকেল ৪টায় তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নির্ধারিত ছিল।
বাবার জানাজা, দাফন এবং পারিবারিক ধর্মীয় শেষ আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে সজিবুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম কাওসার আহমেদ সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে সাময়িক মুক্তির একটি জরুরি আবেদন করেন। আবেদনে মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আকুল অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সেই আইনি আবেদনের পরও সজিবুর রহমানকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। ফলে শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখা কিংবা শেষ বিদায়ে উপস্থিত থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, দীর্ঘ ২১ মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি একটি মামলায় সজিবুর রহমান জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু জেল থেকে মুক্ত হয়ে ঘরে ফেরার আগেই সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরেকটি নতুন মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়। ছেলের মুক্তির এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শুনেই বাবা রবি উল্লাহ প্রচণ্ড মানসিকভাবে ভেঙে ও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোক করে মারা যান।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নরসিংদীর রায়পুরা এলাকা থেকে র্যাব-৯ ও র্যাব-১১-এর একটি যৌথ অভিযানে সজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় নাশকতার মামলা থাকায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, সজিবুর রহমান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ২০১৩–১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ২০ মার্চ তিনি শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।
মানবিক কারণে একজন বন্দিকে পিতার জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তির এই ন্যূনতম আবেদনটি নাকচ হওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই প্যারোল আবেদনটি নাকচ করা হলো, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।
