নিজস্ব প্রতিনিধি : বিভিন্ন স্থানে বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টে যথেচ্ছাচার করা এবং লাখ লাখ টাকা বিল না দিয়ে উল্টো মালিকপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনায় এমনিতেই চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই বড় কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এক সাধারণ ও ক্ষুদ্র চা দোকানির ২৫ হাজার টাকা বকেয়া বিল আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার এক ক্ষুদ্র চা বিক্রেতা প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে এনসিপি নেতা শাহরিয়ার ও শাখাওয়াত হোসেনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে এই বকেয়া টাকার দাবি তোলেন। ওই সাধারণ দোকানির ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক তদারকি ও দৈনন্দিন আড্ডার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই প্রভাবশালী নেতা তার দোকান থেকে নিয়মিত চা-নাস্তা খেয়েছেন। কিন্তু দিনের পর দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার এই বকেয়া বিল তারা পরিশোধ করেননি।
দীর্ঘদিন ধরে উপার্জনের এই বড় অঙ্কের টাকা না পেয়ে অবশেষে চরম নিরুপায় ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন ওই চা দোকানি। স্থানীয়ভাবে বারবার চেয়েও বকেয়া টাকা আদায়ের কোনো পথ না দেখে তিনি শেষমেশ সরাসরি এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ হয়েছেন। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিত ও মৌখিক আবেদনের মাধ্যমে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এবং নিজের হাড়ভাঙা খাটুনির উপার্জনের টাকা দ্রুত উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য আকুল অনুরোধ জানিয়েছেন।
গুলিস্তানের মতো ব্যস্ত ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্বশীল পদে থাকা দুই নেতার বিরুদ্ধে একজন দিনমজুরের ‘ক্ষুদ্র বকেয়া’ আটকে রাখার এই অভিযোগে সাধারণ মানুষ, পথচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সাধারণ ও খেটে খাওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এমন অমানবিক আচরণ দলের ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলছে।
সম্প্রতি ঢাকার ইয়েমেনি ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে সাড়ে ১২ লাখ টাকা বিল না দিয়ে উল্টো সেখানে নারী নিয়ে মাসের পর মাস যথেচ্ছাচার ও মৌজ-মাস্তির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেই তীব্র বিতর্কের মাঝেই এবার গরিব চা বিক্রেতার ২৫ হাজার টাকা বকেয়া মারার এই নতুন অভিযোগ এনসিপি নেতাদের ন্যূনতম নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতাকে সাধারণ জনগণের সামনে এক বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে অভিযুক্ত দুই নেতার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
