নিজস্ব প্রতিনিধি : ৫ অগাস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গড়ে ওঠা নতুন নতুন দল এবং সামাজিক সংগঠনের নেপথ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনিস আলমগীর। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ‘জুলাই’ শব্দ বা চেতনাকে কেন্দ্র করে দেশে যতগুলো সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে, সেগুলোর সিংহভাগই মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে ছাত্রসমাজের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জামায়াতের ‘বি-টিম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার জনপ্রিয় টক শো ‘কালের সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেন।
টক শো’তে আলোচনা চলাকালীন আনিস আলমগীর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর মেরুকরণ তুলে ধরে বলেন, “জুলাই নাম দিয়ে বর্তমানে যত সংগঠন রাজপথে কাজ করছে, তাদের বেশিরভাগই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। সাধারণ চোখে মনে হতে পারে এগুলো হয়তো বিএনপির সমর্থক, কিন্তু বাস্তবে এরা বিএনপির সাথে সম্পর্কিত নয়। এমনকি এদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এরা প্রতিনিয়ত বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা ও গালাগাল করছে।”
নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) গঠনের প্রেক্ষাপট টেনে এই প্রবীণ সাংবাদিক আরও বলেন, “এনসিপি যখন গঠিত হয়েছিল, তখন দেশের মানুষ ভেবেছিল একটি ‘ফ্রেশ মাইন্ড’ বা সম্পূর্ণ নতুন মানসিকতা নিয়ে এর জন্ম হয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনে আমাদের ছাত্রসমাজ যে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তাদের হাত ধরে একটি নতুন সমাজ ও আধুনিক রাজনৈতিক চিন্তাধারা তৈরি হবে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কার্যকারিতার দিক থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এরা আসলে জামায়াতেরই আরেকটি উইং বা বি-টিম।” তিনি উল্লেখ করেন, এই সংগঠনের সামনের সারিতে থাকা সিংহভাগ ব্যক্তিই কোনো না কোনো সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবির কিংবা জামায়াতের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
আনিস আলমগীর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে নানামুখী সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ছদ্মবেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এগুলো এমনভাবে বিভিন্ন স্তরে ফিল্টার বা রূপ পরিবর্তন করে মাঠে নামে যে, সাধারণ কেউ প্রথম দেখায় বুঝতে পারবে না এগুলো আসলে জামায়াতের অংশ কি না। তবে এদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ধরণ ও রাজনৈতিক এজেন্ডা গভীরভাবে ফলো করলে সহজেই অনুমেয় যে, জুলাইয়ের নাম ব্যবহার করে তৈরি হওয়া এসব সংগঠন মূলত জামায়াতের উইং হিসেবেই ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে।” এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের এমন সরাসরি মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নতুন সমীকরণ ও তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
