নিজস্ব প্রতিনিধি : ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর চলমান আইনি চাপের ধারাবাহিকতায় এবার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই সক্রিয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তৃণমূলের এই জনপ্রিয় নেতৃদ্বয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শরীয়তপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাটি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে নড়িয়া থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার ঝপসা ও ডিংগামানিক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ঝপসা এলাকা থেকে মাইজপাড়া (মেলকারকান্দি) গ্রামের মো. আজফ্ফর শরীফের পুত্র তথা উদীয়মান তরুণ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল শরীফ সোহান (২১) এবং ডিংগামানিক এলাকা থেকে আবুল মোড়লের পুত্র ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে পরিচিত মুখ যুবলীগ নেতা মো. অলিল মোড়ল (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গ্রেপ্তারকৃত এই দুই নেতা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক কল্যাণ ও জনহিতকর রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন।
নড়িয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা নড়িয়া থানার একটি চলমান মামলার (এফআইআর নং-২৯, তারিখ: ২০ জুলাই ২০২৫; জিআর নং-২২৫) এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত-২০১৩)-এর বেশ কয়েকটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহার মিয়া জানান, “চলমান মামলার ভিত্তিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যথাযথ পুলিশ পাহারায় তাঁদের শরীয়তপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, দুই নেতার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে নড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সোহান ও অলিল মোড়ল সবসময়ই শান্তিকামী এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোনো ধরনের নাশকতার সঙ্গে তাঁদের সুদূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিজ্ঞ আদালতের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তাঁরা খুব দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় জনগণের সেবায় ফিরে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের আইনজীবীরা।
