ফোরটিন ডেস্ক :নানা জল্পনা-কল্পনা ও দীর্ঘ কূটনৈতিক পর্যালোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা ও নয়াদিল্লির নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত দুই বছরের শীতলতা কাটিয়ে দুদেশের সম্পর্ককে একটি ইতিবাচক, স্থিতিশীল এবং জনকেন্দ্রিক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতেই শীর্ষ পর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় আয়োজন।
আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের আগেই এই বহুল আলোচিত সফরটি সম্পন্ন হতে পারে। এমনকি চলতি মাসেই তিনি দিল্লি সফর করতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায় ভারত সহ বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর সম্পন্ন করেছেন।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান নিলে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
পরবর্তী দুই বছরে কূটনৈতিক তিক্ততা, ভিসা স্থগিত, বাণিজ্যে পারস্পরিক বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে শীতল সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানান। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ইতিবাচক ভূমিকা এবং সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক সফরটি ত্বরান্বিত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বৈঠক শেষে ভারতের হাইকমিশনারও ইঙ্গিত দেন, দ্বিপক্ষীয় সব বকেয়া সংকটের সমাধান কেবল মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। কূটনৈতিক সূত্রে প্রকাশ, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার এই বরফ গলার প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা এবং সীমান্তে বাণিজ্য স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।
ব্রিকস সম্মেলনের মতো বহুপক্ষীয় আসরের চেয়ে সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় সফর মোদি-তারেক সরাসরি আলোচনার জন্য বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
