ফোরটিন ডেস্ক : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও বীরশ্রেষ্ঠদের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন, ভাস্কর্য ও ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া তাণ্ডবকারীরা সম্পূর্ণ বিচারহীনতা ও রাজনৈতিক দায়মুক্তি ভোগ করছেন। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি সংশ্লিষ্ট অরাজকতাকারীদের অনেকেই এখন সংসদ সদস্য হিসেবে পদমর্যাদা পেলেও সেই একই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এর জন্য তৈরি করা হয়েছে অতি-কঠোর আইন।
নতুন প্রণীত ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আইন-২০২৬’ অনুযায়ী, এই জাদুঘরের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর নিদর্শনের ক্ষয়ক্ষতি করলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভবনে তৈরি করা এই ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে এটি জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
আইন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইনটির ২২ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি এই জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস, বিনষ্ট বা ক্ষতিসাধন করলে তিনি অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া ২৩ ধারায় কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করার দায়ে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি সংগৃহীত বস্তুর ওপর খোদাই করা বা নাম লেখার মতো অপরাধেও রয়েছে এক বছরের কারাদণ্ডের আইনি নির্দেশ।
আইনের ৪ ও ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, গণভবনে জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় থাকার পাশাপাশি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা তথাকথিত গোপন বন্দিশালা বা আয়নাঘরগুলোকেও এই জাদুঘরের অধীনস্থ শাখা হিসেবে গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হবে।

একই দেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতার ভাস্কর্য ও স্মৃতি জাদুঘর ধ্বংসকারীদের আইনের আওতায় না এনে সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং অন্যদিকে জুলাই জাদুঘরের সুরক্ষায় নজিরবিহীন কঠোর আইন প্রণয়ন নিয়ে নাগরিক ও রাজনৈতিক সচেতন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

