নিজস্ব প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতার বাসভবন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কালাইয়া বন্দরে প্রকাশ্য দিবালোকে চালানো এই তাণ্ডবের জেরে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে বন্দরের সমস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় জসীম পঞ্চায়েত, রিয়াজ পঞ্চায়েত, স্বপন মৃধা, সোহেল ও ইব্রাহিমসহ বিএনপির আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতাকর্মী একযোগে এই হামলা চালান। হামলাকারীরা প্রথমে সুন্দরী সিনেমা হল সংলগ্ন কালাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক কবিরুজ্জামানের বাসভবনে চড়াও হন। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর তারা একই সময়ে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লার বাসভবনে হামলা চালিয়ে তা তছনছ করে।
এখানেই শেষ নয়, বাসভবনগুলোতে তাণ্ডব চালানোর পর হামলাকারী দলটি কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও কালাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ হাওলাদারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর সময় প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার বাধা দিতে গেলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
এদিকে, প্রকাশ্য এই হামলার ঘটনাটি কালাইয়া বন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানপাট বন্ধ রাখায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এই হামলা ও লুটপাটের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা। বাউফল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।