নিজস্ব প্রতিনিধি : নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামিদুর রহমান (৫৫) নামের এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
নিহত হামিদুর রহমান নলডাঙ্গা উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয় কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্বজন ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন সকালে রায়সিংহপুর বাজারে একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ হামিদুর রহমানের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন এবং বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। দুই দিন আগে থেকে তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, তবে অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের ছেলে রাফিউর রহমান মাহি দাবি করেছেন, ৩ জুনের হামলার সময় তাঁর বাবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছিল।
সেই দীর্ঘস্থায়ী আঘাত ও শারীরিক জটিলতার কারণেই মূলত তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন ও প্রতিবাদী পোস্ট দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৩ জুন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হামিদুর রহমানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁর দুই পা ভেঙে দেয়, যার ফলে তিনি চিরতরে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মঙ্গলবার রাতে তাঁর এই করুণ মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করেছেন নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, “বিএনপি কখনোই এই ধরনের সন্ত্রাসী বা প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না এবং জড়িতও নয়। আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমাদের দলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” দেশের চলমান ক্রান্তিকালে এক মাসের ব্যবধানে এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু এবং তা নিয়ে শুরু হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুধী সমাজ।
