নিজস্ব প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য মেজর (অব.) কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই আদেশে পঞ্চগড় জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নীলুফা ইয়াসমিনকেও জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে পাওয়া ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব আলী মুয়াদের আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মির্জা নাজমুল ইসলাম বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ জুন রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার নিজস্ব খামারবাড়িতে তাঁর স্ত্রী কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ১২০ জন নেতাকর্মী অংশ নিয়ে কেক কাটার পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন এবং উপস্থিত সবার মাঝে খাবার বিতরণ করেন। এর প্রায় এক মাস পর, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে কাজী মৌসুমী ও নীলুফা ইয়াসমিন এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ছিলেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন জানান, আসামিরা গত ১৭ মে হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে মেয়াদের আগেই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতে শুনানির সময় মানবিক দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, “কাজী মৌসুমী একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, পাশাপাশি তাঁর একটি ছোট ছেলে গুরুতর প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। অন্য আসামি নীলুফা ইয়াসমিনও মারাত্মক ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত এবং তাঁর একটি পা প্রায় অচল হওয়ার মতো অবস্থা। আমরা এসব শারীরিক ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিনের জোর আবেদন করেছিলাম, কিন্তু আদালত সব যুক্তি নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
