নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক অবক্ষয়ের গ্রাফ যখন ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক তখনই নরসিংদীর মাধবদীতে এক চরম অমানবিক ও নৃশংস অপরাধের চিত্র সামনে এসেছে। সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নে ২২ বছর বয়সী এক বাক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ফুসলিয়ে নিজের বসতঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে এই জঘন্য ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত আওলাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে এবং সাধারণ মানুষ অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বরদেরকান্দি গ্রামে এই পাশবিকতার ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত আওলাদ হোসেন ওই গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্র থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওলাদ হোসেন সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং তিনি একজন জামায়াত কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত, যদিও দলটিতে তাঁর সুনির্দিষ্ট কোনো পদবী বা সাংগঠনিক পদ নেই। ঘটনার দিন দুপুরে নিজ বাড়ির পাশে পেয়ে ওই অসহায় বাক প্রতিবন্ধী তরুণীকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান আওলাদ এবং সেখানে তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী তরুণী বাড়ি ফিরে ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাঁর মাকে এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি জানায়।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগীর পরিবার ১০-১২ জন প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে মাধবদী থানায় হাজির হন এবং আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে রাতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী তরুণীর জবানবন্দি গ্রহণ, যথাযথ ডাক্তারি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে শেখেরচর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আওলাদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্রান্তিকালের মাঝেও এমন অসহায় প্রতিবন্ধী নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা আইনের শাসন ও সামাজিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। স্থানীয় সুধী সমাজ দাবি করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো ধরনের প্রভাব খাটিয়ে যেন এই ঘৃণ্য অপরাধী পার না পেয়ে যায়, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
