নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর : এসএসসি পরীক্ষায় অস্বাভাবিক হারে ফলাফল খারাপ হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। ক্ষোভের মুখে শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি কক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে দুটি শর্তে বাধ্য হয়ে সম্মতি প্রকাশ করার পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিক্ষকদের মুক্তি দেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর উচ্চবিদ্যালয়ে এ নজিরবিহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, চলতি বছর রামেরচর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সোমবার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে মাত্র ২১ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাস করা এই ২১ জনের কেউই স্থানীয় পরীক্ষার্থী নয়; তারা মূলত জেলা শহরের বিভিন্ন নামি স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে সেখান থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল। পাসের হারের এই ভয়াবহ ধসে অভিভাবকরা শিক্ষকদের চরম অমনোযোগ ও পাঠদানে চরম গাফিলতিকে দায়ী করছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ফলাফল ঘোষণার পর চরম ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি কক্ষে আটকে রেখে বাইরে থেকে তালা আটকে দেন। বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান। শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে শেরপুর সদর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষকদের তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে পুলিশ উপস্থিত হলেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়ে দুটি দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দাবি দুটি হলো— ১. ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) যাবতীয় খরচ শিক্ষকদের বহন করতে হবে। ২. আগামী ২০২৭ সালে ফেল করা বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যাবতীয় ফরম পূরণের খরচও শিক্ষকরা নিজ দায়িত্বে দেবেন।
অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর বড় ছেলে এই স্কুল থেকেই ভালো ফলে পাস করলেও শিক্ষকদের তীব্র অবহেলা ও গাফিলতির কারণে ছোট ছেলেটি এবার ফেল করেছে।
তবে এমন গাফিলতির অভিযোগ স্পষ্ট অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বলেন, “আমাদের কোনো শিক্ষক পাঠদানে সামান্য গাফিলতিও করেননি। মূলত শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা না করায় এই ফল বিপর্যয় ঘটেছে। ঘটনার পেছনে কেবল পরীক্ষার ফল নয়, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির ভেতরের কোন্দলও অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।” তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দুটি দাবি মেনে নেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
