লেখকঃ আনিস আলমগীর
ফরিদপুরের পর চট্টগ্রামেও একই কান্ড ঘটলো। গ্রেপ্তারের একদিন পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা সাতকানিয়ার নুরুল আলমের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) গ্রেপ্তার হওয়ার পর বুধবার (২৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জেল কর্তৃপক্ষ ‘শ্বাসকষ্টের’ অজুহাত দিলেও পরিবারের অভিযোগ স্পষ্ট- সুস্থ মানুষকে হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তি: নুরুল আলম (৪৫), সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর এই নোংরা রেকর্ড নতুন নয়। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের পর ব্যবস্থার বদল হবে আশা করা হলেও, পরিসংখ্যান বলছে বাস্তবতা আরও নিষ্ঠুর হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর (যেমন- আসক, এইচআরএসএস) তথ্যমতে: ২০২৫ সালে দেশের কারাগার ও থানা হেফাজতে অন্তত ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৬ সালের বছরের প্রথম চার মাসেই (জানুয়ারি-এপ্রিল) এই সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, এই ভয়ংকর পরিসংখ্যান প্রমাণ করে- রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নাগরিকদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। অপরাধের বিচারের জন্য আইন ও আদালত আছে, কিন্তু রিমান্ড বা কাস্টডিতে পিটিয়ে মেরে ফেলা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। জীবনের নিরাপত্তা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার, যা দেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত।
ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের এই খুনে চরিত্রের বদল ঘটে না কেন? হেফাজতে যাওয়া মানেই কি জীবনের নিশ্চিত সমাপ্তি?
নুরুল আলমের এই রহস্যজনক মৃত্যুর তীব্র নিন্দা জানাই। ৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত হেফাজতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে আর একটি প্রাণও যেন অকালে না হারায়।
